দ্বিতীয় জন গল্প পর্ব ৫ । গল্পের নাম দ্বিতীয় জন পর্ব পাঁচ

                  দ্বিতীয় জন 


ভিডিওতে রায়ান তার নিজের মাকে ফ্লোরে পরে থাকা অবস্থায় দেখতে পেলো। গোটা শরীরে তার আঘাতের চিহ্ন। ক্ষত বিক্ষত হয়ে আছে তার মুখ। রায়ান পুরো ভিডিও টা শেষ করতে পারলোনা। তার আগেই চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়তে লাগলো। হার্টবিট বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে গেলো যে সে নিশ্বাস নিতে পারলো না। নেশার ঘোর অলরেডি কেটে গেছে।


রায়ান ধরফর করে বিছানা থেকে উঠে ওর মায়ের নাম্বারে কল দিলো। কয়েকবার কল হওয়ার পর রিসিভ হলো। রায়ান কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল-

-'হ্যালো মা?'

-'মায়ের সাথে তো অনেক কথাই বলেছিস এখন আমার সাথে একটু বল!'

-'বর্ষা তুমি?'

-'হ্যাঁ আমি! কেনো খুব কষ্ট পেলি মনে হচ্ছে?'

রায়ান চুপ করে আছে। ওর মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না। ও কি বলবে বুঝতে পারছে না।


একটু পর বর্ষা রাগান্বিত হয়ে বলল-

-'তুই শুধু একাই চাল চালতে জানিস? আর মানুষ কিছুই করতে জানেনা?'

-'বর্ষা প্লিজ তোমার যা করার আমার সাথে করো! এর মধ্যে মাকে টানিওনা।'

-'চুপ কর শুয়োরের বাচ্চা। তুই তাহলে হিমুকে ক্যান টানলি আমাথ সাথে বোঝাপড়া না করে? তাও আবার কাপুরুষের মতো মিথ্যা নাটক সাজিয়ে?'

-'তুমি আমায় ক্ষমা করে দাও বর্ষা।'

-'ক্ষমা তো তোকে করবোই। তবে সেটা কড়াই-গন্ডাই হিসাব মিটিয়ে!'


রায়ান ছোট বাচ্চাদের মত কান্না করতে লাগল। তার হাতে করার কিচ্ছু নেই। সে নিরুপাই। জীবনে সে অনেক সারপ্রাইজ পেয়েছে, নানা ভাবে অনেক কষ্টও পেয়েছে কিন্তু সেটা আজকের মতো না। সে এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে বর্ষা এতটা হিংস্র হতে পারে!


নিরবতা কাটিয়ে বর্ষা বলল-

-'তুই আমার হিমুকে যে আঘাত করেছিস, সে আঘাত ওর শরীরে না যতোটা লেগেছে তার চেয়েও দশ গুণ বেশি আমার শরীরে লেগেছে! তুই কি বলতে পারিস সেটা আমি কতোটা কষ্টে সহ্য করেছি?'


রায়ান চুপচাপ থ মেরে আছে। বর্ষা ওকে চুপ থাকতে দেখে আরো বেশি রাগান্বিত হয়ে উঠলো। রাগী কন্ঠে চাপা গলায় বলল-

-'তুই বলতে পারবিনা। কারন তুই সেরকম পরিস্থিতির স্বীকার এখনো হোসনি। তবে খুব শীঘ্রই হবি।'

-'প্লিজ বর্ষা তুমি এমন টা করিওনা। আমি আর নিতে পারছিনা এই বিষয়টা!


হাজারো হোক রায়ান ছেলে মানুষ। স্বাভাবিক ভাবেই একটা মেয়ের কাছে এমন ছোট হয়ে যাওয়া সে মেনে নিতে পারছে না। তার উপরে আবার বর্ষা তার একদম দূর্বল জায়গায় আঘাত করেছে। সে রাগে চেঁতে উঠতে লাগলো। কিন্তু তাতে কোন লাভ নেই জেনে সে চুপ হয়ে থাকলো। সে এখন নিরুপাই। তবু শেষ ভরসা হিসেবে রায়ান হিমুর রুমের দিকে যেতে লাগলো। যদি হিমুকে দিয়ে কিছু করা যায়। কিন্তু রুমের দরজা খুলে হিমুকে দেখতে না পেয়ে সে আরো বেশি অবাক হয়ে গেলো।


রায়ান নড়াচরা করার মতো কোন শক্তি পেলো না। বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। সবকিছু ওর মাথার উপর দিয়ে যেতে লাগলো।


এদিকে বর্ষা ওর অবস্থাটা আন্দাজ করতে পেরে সজোরে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল-

-'তুই মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মানুষকে বোকা বানাতে পারিস, কিন্তু মানুষ তোকে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে বোকা বানাতে পারেনা, তাইনা? তুই শুধু একাই দাবার চাল টা দিতে পারিস?

রায়ান এখনো চুপ। ওর মুখ দিয়ে কোন কথা বেরুচ্ছে না।


বর্ষা আবার বলতে শুরু করলো-

-'আমি তোকে এমন শিক্ষা দিবো যে তুই সারাজীবনের জন্য আমার নাম ভুলে যাবি।'


বর্ষা এতো বেশি রেগে যেতো না। প্রথমত হিমুকে ব্লাকমেইল করে বেধড়ক পিটিয়েছে তার উপরে আবার ওর সাথে ফিজিক্যালি রিলেশন করতে উঠেপড়ে লেগেছে।


সে কারনে ও অগ্নি মূর্তি হয়ে আছে। রায়ানকে চুপ থাকতে দেখে ও রায়ানের মায়ের হাতের একটা নখ প্লাস দিয়ে টেনে তুলে ফেলতে লাগলো! ওর মা গোঙাতে আছে। রায়ানের কলিজা ফেটে যেতে লাগলো। বর্ষা রায়ানকে বলল-

-'তোকে তো আর একটা সারপ্রাইজ দেই-ই নি। তোর মাকে কয়েক টা ছেলে দিয়ে রেইপ করে নিয়েছি।। ভাবছি তোর সামনে আর একবার নিবো, কেমন হবে বলতো?'

রায়ান আর সহ্য করতে পারলোনা। ও রাগে চিৎকার করে বলল-

-'তুই কোথায় আছিস আমায় ঠিকানা টা বল। তোর কতো সাহস আছে আমার সাথে লাগ!'

ওর কথা শুনে বর্ষা সজোরে হাসতে হাসতে বলল-

-'তোর মতো কাপুরুষের সাথে আমি কেমনে লাগবো রে ভাই? যে তুই আমার হিমুকে কব্জা করার জন্য মিথ্যা নাটক সাজাস, যে তুই আমার হিমুকে মারার জন্য দশ বারোটা টোকাই ভাড়া করিস, সেই তোর সাথে আমি কেমনে লাগবো বল? আমার খুব ভয় লাগছে রে.....

কথাটা বলেই বর্ষা আবার হেসে কুটিকুটি হতে লাগলো

রায়ানের সহ্য ক্ষমতা শেষ । কিন্তু তবু সে ফোন টা রাখতে পারছে না। বর্ষা এবার হাসি থামিয়ে বলল-

-'তোর মায়ের দুই হাতের দশটা নখই তুলে নিয়েছি। ব্লেড দিয়ে দুই পা কেটে কেটে দিয়েছি। ভাবছি এতেও কি তোর পেট ভরেছে নাকি আরো কিছু করবো? তুই এক কাজ কর! আমি এড্রেস লিখে দিচ্ছি সেই ঠিকানাই তুই একাই চলে আয়।

-'আর হ্যাঁ, আমি যা যা করতে বলবো তুই তাই তাই করবি ।নয়তো তোর মাকে একদম প্রানে মেনে ফেলবো।'


রায়ান কোন কিছু না ভেবেই পাগলের মতো ঠিকানা অনুযায়ী যেতে লাগলো।


রায়ান কিছুতেই মেলাতে পারছেনা যে এই কি সেই বর্ষা যার সাথে সে এতোদিন কথা বলেছে। বর্ষাকে সব সময় অনেক শান্ত শিষ্ট আর ভদ্র মনে হয়েছে। ওর এতো সুন্দর মুখের আড়ালে যে এতোটা হিংস্রতা থাকতে পারে জানলে সে কখনোই হিমুর সাথে লাগতে যেতোনা।


রায়ান ঠিকানা অনুযায়ী পৌঁছে দেখলো একটা ছোট পুরোনো বাড়ি। সামনে দুইজন হাবিলদার। সে বর্ষার নাম্বারে কল দিতেই একটা ছেলে এসে ওকে চেক করে ভেতরে নিয়ে গেলো। রুমের ভেতরে রুম। দুইটা রুম পেরিয়ে সে কাঙ্খিত রুম টি দেখতে পেলো। বর্ষা একটি চেয়ারে বসে আছে। ওর সাথে ওর ফুফুর বাসার কেয়ার টেকার মহিলাটিকেও দেখতে পেলো। আশে পাশেই কয়েকজন ছেলেও বসে আছে। আর ওর মা ফ্লোরে পরে আছে রক্তাক্ত অবস্থায়।


রায়ানকে উদ্দেশ্য করে বর্ষা বলল-

-'তোর মা বহুক্ষণ থেকে পানি চাচ্ছিলো। কিন্তু কি করবো বল? এখানে তো কোন বাড়তি পানি নেই।

রায়ান ওর মায়ের দিকে তাকাতে পারছেনা। চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বর্ষা উঠে ওর কাছে গিয়ে বলল-

-'তোকে যদি এখন আমি এদের দিয়ে পিটিয়ে নেই তাহলে তুই কয়েকদিন পর আবার সুস্থ হয়ে যাবি। তারপর আবার নরপশু হয়ে উঠবি। কিন্তু আমি তোর এমন কিছু একটা করতে চাই যাতে তুই আর কখনো খারাপ কিছু করতে না পাস! ঠিক বাঁচা মরার মাঝামাঝি অবস্থায় তোকে রাখতে চাই।


কথাটা বলেই বর্ষা ওর মাথার চুল থেকে কাঁটা টা বের করে হাতে নিলো। তারপর রায়ানকে ওর দিকে তাকাতে বলল। রায়ান ওর দিকে তাকাতেই ও কাঁটা টা রায়ানের চোখে ঢুকিয়ে দিলো।।।

[রায়ানের অনেক মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক, হিমুকে বেধরক ভাবে পেটানোর জন্য তার মাকেই বেছে নিয়েছি, তাকে মনোকষ্ট দেওয়ার জন্য। ভালো করে না পড়ে হুদাই কমেন্ট না করলে খুশি হবো]


To be continue....

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.